অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ নিয়ে বহুল প্রচলিত কিছু যড়যন্ত্র তত্ত্ব
অ্যান্টার্কটিকা নিছক বরফে আবৃত একটি মহাদেশ নয়; এটি আজও মানব কল্পনার জন্য এক বিশাল, অজানা প্রান্তর হিসেবে রয়ে গিয়েছে। ইউরোপের থেকেও বৃহৎ এই ভূখণ্ডে কোনো স্থায়ী জনবসতি নেই। এই মহাদেশটি এমন এক ব্যতিক্রমী আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনে পরিচালিত হয় যেটি সেখানে পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোর সামরিক তৎপরতা এবং বাণিজ্যিক শোষণকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন করে।
যেখানে মানচিত্রের সীমানা অস্পষ্ট এবং প্রবেশাধিকার অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত, সেখানে
জল্পনা-কল্পনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে, গত এক শতাব্দী ধরে অ্যান্টার্কটিকা
বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই তত্ত্বগুলোর দাবি, এই
হিমশীতল ভূখণ্ডে এমন সব রহস্য লুকিয়ে আছে যা মানব ইতিহাস, বিজ্ঞান এবং মহাবিশ্বে
আমাদের নিজেদের অবস্থানকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিতে পারে। এই প্রবন্ধে
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ নিয়ে এরকম ছয়টি তত্ত্ব আলোচনা করা হলো।
সূচিপত্রঃ অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ নিয়ে বহুল প্রচলিত কিছু যড়যন্ত্র তত্ত্ব
- বরফের তলে চাপা পড়া এক হারানো সভ্যতার কাহিনি
- নাৎসিদের টিকে থাকার মিথঃ গোপন ঘাঁটি এবং চতুর্থ রাইখ
- অপারেশন হাইজাম্পঃ যেই যুদ্ধের অস্তিত্ত্ব কখনো স্বীকার করা হয়নি
- ফাঁপা পৃথিবী এবং অভ্যন্তরীণ বিশ্ব প্রকল্প
- ভিনগ্রহের প্রানিদের উপস্থিতি এবং অ-মানবিক প্রযুক্তি
- বৈশ্বিক গোপনীয়তা তত্ত্বঃ কেন অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ নিয়ে এত কড়াকড়ি
- শেষ কথা
বরফের তলে চাপা পড়া এক হারানো সভ্যতার কাহিনি
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের সাথে জড়িয়ে থাকা সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং আকর্ষণীয়
ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলোর মধ্যে একটি হলো যে এই মহাদেশ একসময় একটি উন্নত প্রাচীন
সভ্যতার জন্মস্থান ছিল। এই ধারণা অনুসারে, দূর অতীতে অ্যান্টার্কটিকা সম্পূর্ণ
বরফমুক্ত ছিল এবং সেখানে জ্যোতির্বিজ্ঞান, নৌচালনা (নেভিগেশন) এবং প্রকৌশল
বিদ্যায় অত্যন্ত দক্ষ একটি উন্নত সমাজ গড়ে উঠেছিল। এই তত্ত্বের প্রবক্তারা
বিশ্বাস করেন যে সেই হারিয়ে যাওয়া উন্নত বিশ্বের চিহ্ন আজও রহস্যময় প্রাচীন
মানচিত্রগুলির মধ্যে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা গুপ্ত লোককথার মধ্যে
লুকিয়ে আছে।
এই তত্ত্বে বিশ্বাসীরা আরও দাবী করেন যে কোনো এক ভয়াবহ বৈশ্বিক মহাবিপর্যয়
(যেমন, পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের আকস্মিক দিক পরিবর্তন (Geomagnetic Reversal), অথবা কোন এক প্রলয়ংকারি মহাপ্লাবন) এই উন্নত সভ্যতাটিকে চিরতরে ধ্বংশ করে
দিয়েছে। তারা যুক্তি দেন যে, অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের দ্রুত বরফে আচ্ছাদিত হয়ে
পড়ার ঘটনাই এই উন্নত সভ্যতার প্রায় সমস্ত ভৌত ও বস্তুগত প্রমান নিশ্চিহ্ন করে
দিয়েছে। তারা আরও মনে করেন যে, বর্তমানে সেই নিষিদ্ধ জ্ঞানের কেবলমাত্র কিছু
বিচ্ছিন্ন অংশই বিভিন্ন প্রাচীন পুরাণ, রহস্যময় স্মৃতিস্তম্ভ এবং ইতিহাসে
বিদ্যমান বিভিন্ন অমীমাংসিত অসঙ্গতির মাঝে লুকিয়ে রয়েছে।
এই বিশ্বাসের একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে ১৫১৩ সালের
পিরি রেইস মানচিত্র। অটোমান যুগে আঁকা এই মানচিত্রে বরফমুক্ত অ্যান্টার্কটিকার উপকূলরেখা দেখা যায়,
এরকম একটি প্রমান হিসেবে প্রায়ই উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। ষড়যন্ত্র তত্ত্বে
বিশ্বাসীরা মনে করেন, সেই যুগে অত্যন্ত উন্নত কোনো মুল মানচিত্র ছাড়া এত নিখুঁত
চিত্রাঙ্কন সম্ভব ছিল না। তারা মনে করেন, এই মূল মানচিত্রটি যখন অ্যান্টার্কটিকা
মহাদেশ নাতিশীতোষ্ণ বা সবুজ গাছপালায় ঢাকা ছিল তখনই তৈরি করা হয়েছিল। তাদের মতে,
পিরি রেইস মানচিত্র এমন এক ভুলে যাওয়া যুগের ভৌগোলিক জ্ঞান বা প্রাচীন প্রযুক্তির
প্রমাণ, যাকে আমাদের প্রচলিত ইতিহাস ও বিজ্ঞান স্বীকার করতে চায় না।
তবে আধুনিক বিজ্ঞান এই রহস্যময় দাবিগুলোকে জোরালোভাবে নাকচ করে দেয়। বৈজ্ঞানিক
তথ্য-প্রমাণ ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণা অনুযায়ী, অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশটি লক্ষ লক্ষ
বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে বরফের পুরু স্তরে ঢাকা রয়েছে। গবেষকদের মতে, পিরি রেইস
মানচিত্রে যা দেখা যায় তা আসলে কোনো বরফমুক্ত মহাদেশের মানচিত্র নয়। বরং এটি ছিল
তৎকালীন মানচিত্র অঙ্কনের ত্রুটি, অসম্পূর্ণ ভৌগোলিক জ্ঞান অথবা সেই সময়ের বহুল
প্রচলিত
টেরা অস্ট্রালিস
নামক এক কাল্পনিক বা পৌরাণিক ভূখণ্ডের চিত্রায়ন। সংক্ষেপে বলতে গেলে, বরফমুক্ত
অ্যান্টার্কটিকার এই রোমাঞ্চকর দাবিটি কোনো অকাট্য প্রমাণের ওপর নয়, বরং তথ্যের
ভুল ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে।
বিজ্ঞান এই তত্ত্বকে প্রত্যাখ্যান করলেও বিশ্বাসীদের কাছে এর আবেদন কিন্তু ফুরিয়ে
যায়নি। এটি অনেকের মনে এরকম বিশ্বাসের জন্ম দেয় যে সুদূর অতীতে মানবজাতি হয়তো এমন
সব অসাধারণ ও গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিল, যা সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে অথবা
পরিকল্পিতভাবে মুছে ফেলা হয়েছে। মাইলের পর মাইল পুরু বরফের নিচে চাপা পড়ে থাকা
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ তাই এক জমাটবদ্ধ মহাফেজখানায় পরিণত হয়েছে, যার কথিত
রহস্যগুলো মহাকাল নিজ হাতে সিলগালা করে রেখেছে।
নাৎসিদের টিকে থাকার মিথ: গোপন ঘাঁটি এবং চতুর্থ রাইখ
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ নিয়ে গড়ে ওঠা ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলোর মধ্যে নাৎসি
জার্মানিকে কেন্দ্র করে প্রচলিত কাহিনীগুলো সম্ভবত সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত হয়ে আছে।
১৯৩৮ থেকে ১৯৩৯ সালের দিকে তৎকালীন জার্মান সরকার বা থার্ড রাইখ এই হিমশীতল
মহাদেশে একটি সত্যিকারের অভিযান পরিচালনা করেছিল এবং একটি বিশেষ অঞ্চল জরিপ করে
তার নাম দিয়েছিল নিউশোয়াবেনল্যান্ড (Neuschwabenland)। ঐতিহাসিকভাবে
তৎকালীন জার্মান কর্তৃপক্ষ একে একটি সংক্ষিপ্ত ও সাধারণ অনুসন্ধানমূলক মিশন
হিসেবে নথিবদ্ধ করে রাখলেও, ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীরা একে অনেক বেশি রহস্যময়
এবং ভয়ংকর কিছু হিসেবে চিত্রায়িত করে থাকেন।
প্রচলিত বিভিন্ন জনশ্রুতি অনুযায়ী, নাৎসিরা অ্যান্টার্কটিকায় বিশাল এবং বরফমুক্ত
কিছু গুহা খুঁজে পেয়েছিল। সেখানে তারা বেস ২১১ (Base 211) নামে অত্যন্ত উন্নত ও
আধুনিক এক ভূগর্ভস্থ স্থাপনা গড়ে তোলে। এই তত্ত্বে বিশ্বাসীরা দাবি করেন যে
ইউরোপে যখন নাৎসিদের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখন একদল 'ইউ-বোট' (U-boats) বা
সাবমেরিনের মাধ্যমে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ সব গোপন সম্পদ এই
প্রত্যন্ত মেরু দুর্গে সরিয়ে নেওয়া হয়। কোনো কোনো কাহিনীতে এমন দাবিও করা হয় যে,
অ্যাডলফ হিটলার পরাজয়ের গ্লানি থেকে বাঁচতে এই ভূগর্ভস্থ আশ্রয়ে পালিয়ে
গিয়েছিলেন। সেখানে বসেই তিনি নির্বাসিত অবস্থায় 'থার্ড রাইখ'-এর শাসন ও কার্যক্রম
চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
কথিত আছে, এই গোপন বাঙ্কারগুলোর ভেতরে নাৎসি বিজ্ঞানীরা অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি
(মহাকর্ষবিরোধী) এবং অত্যাধুনিক প্রপালশন সিস্টেম বা যান চালনা পদ্ধতির মতো
যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছিলেন। অনেকে দাবি করেন যে নিজেদের বৈজ্ঞানিক
অগ্রগতিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে সেই দলটি কোনো এক ভিনগ্রহী বা অ-মানবিক উন্নত
শক্তির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছিল।
মূলধারার ইতিহাসবিদরা এসব দাবিকে নিছক গালগল্প বা কল্পকাহিনী বলে উড়িয়ে দিলেও,
আধুনিক ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জগতে গোপন সংগঠন এবং হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা নিয়ে আলোচনার
ক্ষেত্রে এগুলো আজও অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে।
এই তত্ত্বটি মূলত তথ্যের অস্পষ্টতা এবং ইতিহাসের কিছু ধূসর অধ্যায়কে পুঁজি করে
টিকে আছে। এটি সত্য যে, নাৎসি জার্মানি একসময় উন্নত বিজ্ঞান এবং অত্যন্ত গোপন
মারণাস্ত্র তৈরির নেশায় মত্ত ছিল। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরেও
অপারেশন পেপারক্লিপ এর মাধ্যমে অনেক জার্মান বিজ্ঞানীকে আমেরিকার প্রধান
প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মসূচিতে যুক্ত করা হয়েছিল যা এই সন্দেহকে আরও উসকে দেয়।
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের চরম প্রতিকূল পরিবেশ সাধারণ মানুষের জন্য এক দুর্ভেদ্য
দেয়াল, যেখানে গিয়ে এসব দাবীর সত্যতা যাচাই করা প্রায় অসম্ভব এক ব্যাপার। আর এই
সুযোগেই মানুষের কল্পনা ডালপালা মেলার রসদ পায়। পরিশেষে বলা যায় যে, বরফের বিশাল
স্তর কেবল একটি মহাদেশকে নয়, বরং এক অসমাপ্ত ইতিহাসকে আড়াল করে রেখেছে।
*** চতুর্থ রাইখ (The Fourth Reich): একটি কাল্পনিক ধারণা যে নাৎসিরা পুনরায়
সংগঠিত হয়ে বিশ্বজুড়ে তাদের শাসন বা চতুর্থ রাইখ প্রতিষ্ঠা করবে।
অপারেশন হাইজাম্পঃ যেই যুদ্ধের অস্তিত্ত্ব কখনো স্বীকার করা হয়নি
১৯৪৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
অপারেশন হাইজাম্প
নামে পরিচিত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অ্যান্টার্কটিকা অভিযান শুরু করে। অ্যাডমিরাল
রিচার্ড ই. বার্ডের (Richard E. Byrd) নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে আন্টার্কটিকা
মহাদেশে হাজার হাজার সৈন্যের পাশাপাশি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন মোতায়েন
করা হয় এবং আকাশপথে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে একে কেবল সামরিক
প্রশিক্ষন, রসদ ব্যবস্থাপনা এবং নতুন মানচিত্র তৈরির একটি সাধারণ মিশন হিসেবে
উল্লেখ করা হলেও, এর ব্যাপক আয়োজন আজও অনেককে অবাক করে তোলে।
তবে পর্দার আড়ালে ভিন্ন এক কাহিনী প্রচলিত আছে। অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী
মনে করেন, এই অভিযানের আসল উদ্দেশ্য ছিল একদমই আলাদা। তাদের মতে, কেবল বৈজ্ঞানিক
গবেষণা বা সাধারণ প্রশিক্ষণের জন্য এত বিশাল সামরিক আয়োজন কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত
নয়। তারা ধারনা করেন যে অ্যান্টার্কটিকায় এমন কোনো রহস্যময় বা গোপন কিছু আবিষ্কৃত
হয়েছিল, যাকে ইচ্ছা করেই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অনুযায়ী, অপারেশন হাইজাম্প কোনো সাধারণ বৈজ্ঞানিক গবেষণা ছিল না,
বরং এটি ছিল একটি পুরোদস্তুর গোপন সামরিক অভিযান। অনেকেই দাবী করে থাকেন যে এর
আসল উদ্দেশ্য ছিল অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে লুকিয়ে থাকা নাৎসি বাহিনীর গোপন
ঘাঁটিগুলো খুঁজে বের করা এবং সেগুলো ধ্বংস করে দেওয়া। এমনকি অনেকে আরও একধাপ
এগিয়ে গিয়ে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল সেনাবাহিনী আসলে সেখানে কোনো উন্নত
প্রযুক্তিসম্পন্ন অমানবিক বা ভিনগ্রহের সভ্যতার সাথে মোকাবেলা করতে
গিয়েছিল।
ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীরা অ্যাডমিরাল বার্ডের পরবর্তী জীবনের রহস্যঘেরা
মন্তব্যগুলোকে এই অভিযানের পক্ষে বড় ধরনের প্রমান হিসেবে দেখে থাকেন। বিশেষ করে
তিনি তার ডায়েরীতে মেরুর সীমানা ছাড়িয়ে অজানার ভূখণ্ড এবং
অবিশ্বাস্য উন্নত আকাশযানের মুখোমুখি হওয়ার যে অভিজ্ঞতা লিখে রেখেছিলেন,
তা তারা বারবার তুলে ধরেন। তারা মনে করেন, অ্যাডমিরাল বার্ড আসলে এমন কোনো গোপন
সত্য ফাঁস করে দিয়েছিলেন, যা মূলধারার ইতিহাসে সচেতনভাবেই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
অভিযানটিকে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই হঠাৎ করে শেষ করে দেবার ঘোষনা আসার ফলে
চারদিকে জল্পনা-কল্পনার ঝড় ওঠে। ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীরা অ্যান্টার্কটিক
মহাদেশ থেকে আমেরিকান সেনাবাহিনীর এই আকস্মিক বিদায়কে বড় কোনো বিপদের সংকেত
হিসেবে দেখে থাকেন। তাদের মতে, সেখানে নিশ্চয়ই ভয়ানক কোনো অঘটন ঘটেছিল যা
ধামাচাপা দিতে এবং আসল সত্য গোপন করতে সরকার তড়িঘড়ি করে অভিযানটি বন্ধ করে দেয়।
সবশেষে বলা যায় যে, যড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীদের কাছে অ্যান্টার্কটিকা হলো এক
নীরব যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে সাধারণ মানুষের অজান্তে বড় কোনো সংঘাত ঘটেছিল। তাদের
কাছে এটি কখনো নাৎসিদের গোপন আস্তানা, আবার কখনো ভিনগ্রহের কোনো শক্তির সুরক্ষিত
অঞ্চল। মূলত অপারেশন হাইজাম্প এর অস্তিত্ত্ব তাদের মনে এই ধারণাকেই জোরালো করে
যে, অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে লুকিয়ে থাকা সত্যগুলো কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত
সচেতনভাবে বিশ্ববাসীর কাছ থেকে গোপন করে রেখেছে।
ফাঁপা পৃথিবী এবং অভ্যন্তরীণ বিশ্ব প্রকল্প (The Hollow Earth and Inner World Hypothesis)
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশটি মানচিত্রে স্থান পাওয়ার অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন
দার্শনিক ও মরমী সাধকেরা (mystics) মনে করতেন পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ হয়তো শূন্য বা
ফাঁপা অবস্থায় রয়েছে। প্রাচীন এই চিন্তাধারাগুলো মূলত পৌরাণিক কাহিনী, অধিবিদ্যা
(metaphysics) এবং তৎকালীন সীমিত বিজ্ঞানের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছিল। মূলত
প্রকৃতির রহস্যময় ঘটনাগুলোকে ব্যাখ্যা করার তাগিদ থেকেই এমন কাল্পনিক ধারণার জন্ম
হয়েছিল।
সময়ের বিবর্তনে আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে এই তত্ত্বগুলো মূলধারার চিন্তাজগত
থেকে দূরে সরে গেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তথাকথিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের
অভাবে এগুলো গুরুত্ব হারালেও মানুষের কল্পনা ও রহস্যের জগত থেকে একেবারে বিলুপ্ত
হয়ে যায়নি। আজও বহু মানুষের কল্পনায় এবং লোককাহিনীতে এই অন্তর্জগত বা
ফাঁপা পৃথিবীর ধারণাটি বেঁচে আছে।
বর্তমান সময়ের ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বা কনস্পিরেসি কালচারে ফাঁপা পৃথিবীর
প্রাচীন ধারণাটি আবারও নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এই মতবাদের সমর্থকেরা দাবী
করেন যে অ্যান্টার্কটিকার মাইলের পর মাইল পুরু বরফের নিচে এমন কিছু বিশাল
প্রবেশপথ লুকিয়ে আছে, যা সরাসরি পৃথিবীর অভ্যন্তরের এক গোপন জগতে নিয়ে যায়। তারা
আরও মনে করেন যে সেই অভ্যন্তরীণ জগতটি আমাদের চেনা পৃথিবীর মতো নয়; বরং তা
ভূ-তাপীয় শক্তিতে (Geothermal energy) উষ্ণ থাকে। এমনকি সেই জগতের আকাশে একটি
ক্ষুদ্র অভ্যন্তরীণ সূর্য সবসময় আলো দেয়, যা সেখানকার জীবন ও প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে
রাখে।
তাদের ধারনা অনুযায়ী, পৃথিবীর গভীরে লুকিয়ে থাকা সেই রহস্যময় জগতে অত্যন্ত উন্নত
ও শক্তিশালী সভ্যতার সত্তারা বসবাস করে, যারা বহুকাল আগেই আমাদের এই ভূপৃষ্ঠের
জগতকে বিদায় জানিয়েছে। তাদের পরিচয় নিয়েও রহস্যের কোনো শেষ নেই। কেউ কেউ তাদেরকে
মানবজাতির প্রাচীন এবং প্রজ্ঞাবান পূর্বপুরুষ হিসেবে দেখে থাকেন, আবার অনেকে মনে
করেন যে তারা হলো সময়ের সাথে সাথে চরমভাবে বিবর্তিত কোনো অতি-মানব প্রজাতি, আবার
অনেকের মতে তারা আসলে সুদূর মহাকাশ থেকে আসা ভিনগ্রহের আগন্তুক।
তবে এই সব বর্ণনার একটি জায়গায় অদ্ভুত মিল পাওয়া যায়; আর তা হলো তাদের ভূগর্ভে
চলে যাওয়ার কারণ। ধারণা করা হয়, সুদূর অতীতে বড় কোনো প্রাকৃতিক মহাবিপর্যয় কিংবা
মানবজাতির নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে নিজেদের পবিত্রতা ও অস্তিত্ব রক্ষা করতেই
তারা মাটির গভীরে এক নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গিয়েছিল।
অ্যান্টার্কটিকার মাইলের পর মাইল পুরু বরফের তলায়
লেক ভোস্তক-এর মতো তরল পানির বিশাল আধার বা হৃদ খুঁজে পাওয়াকে আধুনিক বিজ্ঞানের একটি
অন্যতম সাফল্য হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। মজার বিষয় হলো, এই বাস্তব আবিষ্কারগুলোকেই
ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকরা প্রায়ই তাদের ফাঁপা পৃথিবী-এর কাল্পনিক প্রমাণের হাতিয়ার
হিসেবে ব্যবহার করেন।
বরফের নিচে সৃষ্টি হওয়া এই হ্রদগুলোকে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর সাধারণ অভ্যন্তরীণ তাপ
ও চাপের একটি ভূতাত্ত্বিক ফলাফল হিসেবে দেখে থাকেন, সেখানে রহস্যপ্রিয় এই
গোষ্ঠীগুলো সেগুলোকে অন্য কোন জগতে প্রবেশের গোপন পথ বা মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা
এক বিশাল রহস্যময় বিশ্বের প্রবেশপথ হিসেবে প্রচার করে থাকে। মূলত প্রকৃত
বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এই তত্ত্বের বিরুদ্ধে থাকা সত্ত্বেও, তথ্যকে নিজেদের মতো করে
ব্যাখ্যা করার (selective interpretation) প্রবণতার কারণেই এই ধরণের
জল্পনা-কল্পনাগুলো আজও মানুষের মাঝে টিকে আছে।
ভিনগ্রহের প্রানিদের উপস্থিতি এবং অ-মানবিক প্রযুক্তি
অ্যান্টার্কটিকাকে ঘিরে প্রচলিত ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলোর মধ্যে একটি বড় অংশজুড়ে
রয়েছে সেই মহাদেশে ভিনগ্রহের প্রাণীদের (Extraterrestrials) নিয়মিত আনাগোনার
দাবি। এই সব তত্ত্ব অনুযায়ী, এই জনমানবহীন শীতল মহাদেশটি আসলে প্রাচীনকাল থেকেই
ভিনগ্রহের প্রাণীদের নানান কর্মকাণ্ডের এক গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে
আসছে।
এই তত্ত্বের সমর্থকদের মতে, সুদূর অতীতে যখন অ্যান্টার্কটিকা আজকের মতো বরফে ঢাকা
ছিল না এবং সেখানকার পরিবেশ বেশ উষ্ণ ছিল, তখন সেখানে উন্নত ভিনগ্রহের প্রাণীরা
তাদের বসতি গড়ে তুলেছিল। তাদের ধারণা, সেই প্রাচীন সভ্যতার নানা চিহ্ন বা উন্নত
প্রযুক্তির ধ্বংসাবশেষ আজও অ্যান্টার্কটিকার মাইলের পর মাইল পুরু বরফের নিচে
অক্ষত অবস্থায় চাপা পড়ে আছে।
অ্যান্টার্কটিকাকে ঘিরে প্রচলিত কিছু চাঞ্চল্যকর তত্ত্বে দাবি করা হয় যে, এই
মহাদেশে বর্তমানেও ভিনগ্রহের প্রাণীদের সক্রিয় ঘাঁটি বা ল্যাবরেটরি রয়েছে। এই
মতবাদ অনুসারে, ভিনগ্রহের প্রাণীদের এসব গোপন স্থাপনা হয় মাইলের পর মাইল পুরু
বরফের নিচে অতল গহ্বরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, অথবা সেগুলোকে সাধারণ বৈজ্ঞানিক গবেষণা
কেন্দ্রের আড়ালে অত্যন্ত চতুরতার সাথে গোপন রাখা হয়েছে।
ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকদের মতে, অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশটি এতটাই নির্জন এবং সেখানে
সাধারণ মানুষের যাতায়াত এতটাই সীমিত যে, যেকোনো গোপন কর্মকাণ্ড আড়াল করার জন্য
এটি বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। তারা মনে করেন, পৃথিবীর মানুষের নজর এড়িয়ে কোনো
অতি-প্রাকৃতিক বা অ-মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্যই এই চরম বিচ্ছিন্নতাকে
ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কৃত্তিম উপগ্রহ থেকে তোলা অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের ছবিগুলোতে মাঝেমধ্যেই কিছু
অদ্ভুত জ্যামিতিক আকৃতি, রহস্যময় ছায়া বা রাডারের অস্বাভাবিক সংকেত ধরা পড়ে।
ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকদের কাছে এগুলো নিছক কোনো ছবি নয়; বরং তারা এগুলোকে বরফের নিচে
চাপা পড়ে থাকা ভিনগ্রহের মহাকাশযান বা কৃত্রিম কোনো দালানকোঠার অকাট্য প্রমাণ
হিসেবে দাবী করে থাকেন।
বিজ্ঞানীরা এই ধরণের অসামঞ্জস্যকে ক্যামেরার কারিগরি ত্রুটি বা বরফের ওপর আলোর
বিশেষ প্রতিফলন বলে ব্যাখ্যা করলেও, রহস্যপ্রেমীরা তা মানতে নারাজ। তাদের মতে,
এসব দৃশ্য মোটেও কোনো ভুল নয়, বরং এগুলো হলো সাধারন মানুষদের কাছ থেকে
ইচ্ছাকৃতভাবে লুকিয়ে রাখা এক বিশাল সত্যের ইঙ্গিত বহন করে। এভাবেই ধোঁয়াটে বা
অস্পষ্ট তথ্যগুলোকে পুঁজি করে অ্যান্টার্কটিকায় ভিনগ্রহের প্রাণীদের অস্তিত্বের
এক কাল্পনিক জগত সাজানো হয়।
কিছু রহস্যময় কাহিনীতে অ্যান্টার্কটিকাকে প্রচলিত বিশ্ব রাজনীতির উর্ধ্বে থাকা এক
অনন্য ও নিরপেক্ষ অঞ্চল হিসেবে কল্পনা করা হয়। এই তত্ত্ব অনুসারে, বরফঢাকা এই
নির্জন মহাদেশে মানুষ এবং মানুষের বাইরের কোনো এক
অমানবিক বুদ্ধিমান সত্তা-র (যেমন এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণী) মধ্যে এক
অদ্ভুত ও গোপন সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। বলা হয়, এই দুই পক্ষের মধ্যে একটি কঠোর
গোপনীয়তা বজায় রেখে সহাবস্থানের চুক্তি রয়েছে, যা সাধারণ বিশ্ববাসীর চোখের আড়ালেই
কার্যকর হয়ে থাকে। এটি একধরনের অস্বস্তিকর শান্তি বা সমঝোতা, যেখানে উভয় পক্ষই
একে অপরের অস্তিত্ব মেনে নিয়ে নিজেদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
বৈশ্বিক গোপনীয়তা তত্ত্ব: কেন অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ নিয়ে এত কড়াকড়ি
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ নিয়ে চূড়ান্ত ষড়যন্ত্র তত্ত্বটি কেবল কোনো এলিয়েন বা গোপন
শক্তির অস্তিত্বের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে নেই, বরং এটি সেই মহাদেশকে ঘিরে খোদ
গোপনীয়তা-র ধারণাটি নিয়েই দানা বেঁধেছে। এই মতবাদে বিশ্বাসীরা একটি মৌলিক
প্রশ্ন তোলেনঃ কেন অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশটি এমন এক কঠোর আন্তর্জাতিক চুক্তির
অধীনে থাকবে, যেখানে কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা চলে না, সাধারণের প্রবেশাধিকার
সীমিত এবং সামরিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত?
তাদের কাছে মহাদেশটির এই কঠোর প্রবেশাধিকার এবং সামরিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি কেবল
পরিবেশ রক্ষার কোনো সাধারণ নিয়ম নয়। বরং তাদের মতে, বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো
সম্মিলিতভাবে এই বিধিনিষেধের বেড়াজাল তৈরি করেছে যাতে সাধারণ মানুষ সেখান থেকে
দূরে থাকে। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এত বড় এলাকাকে যখন সবার আড়ালে রাখা হয়, তখন তার
বরফের নিচে নিশ্চয়ই অতি-মানবিক বা পৃথিবী বদলে দেওয়ার মতো অসাধারণ কোনো রহস্য
লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসকারীরা আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন, যেমনঃ
অ্যান্টার্কটিকার বিশাল একটি অংশ কেন আজও জনসাধারনের জন্য প্রায় প্রবেশ নিষিদ্ধ
অবস্থায় রয়ে গেছে? এমনকি বিশ্বের নামকরা বিজ্ঞানীরাও কেন এই মহাদেশের নির্দিষ্ট
কিছু এলাকায় খুব একটা পা রাখেন না? এগুলো তাদের মনে এই সন্দেহকে আরও উসকে দেয় যে
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে জনসাধারনের প্রবেশাধিকার ইচ্ছা
করেই অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
এছাড়াও, বর্তমানের ডিজিটাল যুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহ থাকলেও স্যাটেলাইট চিত্রে
মাঝেমধ্যে অ্যান্টার্কটিকার কিছু এলাকা ঝাপসা রাখা বা উচ্চ-রেজোলিউশনের ছবি
প্রকাশে দেরি হওয়াকে তারা সরকারের লুকোচুরি হিসেবে দেখে থাকেন। তাদের মতে,
এসব অস্পষ্টতা কোনো প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা নয়, বরং বড় কোনো সত্যকে সাধারণ
মানুষের নজর থেকে আড়াল করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল।
এই ধরণের ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলোর সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো যে এগুলো টিকে থাকার
জন্য কোনো বাস্তব প্রমাণের প্রয়োজন হয় না, মানুষের মনে জেগে থাকা সন্দেহ-ই
এর জন্য যথেষ্ট। এখানে তথ্যের যেকোনো অভাব বা অনুপস্থিতিকেই বৈজ্ঞানিক সীমাবদ্ধতা
হিসেবে না দেখে, বরং প্রকৃত সত্য গোপন করার অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দাবি করা
হয়। অন্যভাবে বলা যায়, কোনো তথ্য না থাকাটাই এখানে বড় তথ্য হিসেবে কাজ করে
থাকে।
এর ফলে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশটি অনেকের কাছে এক নিষিদ্ধ জ্ঞানের প্রতীকে
পরিণত হয়েছে। এটি এমন এক নিষিদ্ধ জায়গা, যেখানে পরম সত্যকে সাধারণ মানুষের
নাগালের বাইরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। এই পুরো বিষয়টি
আধুনিক সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ বা শাসনব্যবস্থার প্রতি মানুষের গভীর
অবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তোলে এবং ষড়যন্ত্রের এই জালকে আরও শক্তিশালী
করে।
শেষ কথা
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশটি আমাদের অনেকের ভাবনায় এক অদ্ভুত জায়গা দখল করে আছে।
বাস্তবে এর অস্তিত্ত্ব থাকলেও, এটি আমাদের নাগালের বাইরে; মানচিত্রে এর অবস্থান
নির্দিষ্ট থাকলেও এর বিশাল একটা অংশ আজও অজানা রয়ে গেছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণার কমতি
না থাকলেও আবেগীয় দিক থেকে এটি আজও এক গভীর রহস্য হিসেবে আমাদেরকে আকর্ষন করে
চলেছে।
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ নিয়ে বহুল প্রচলিত ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো আসলে
অ্যান্টার্কটিকার চেয়ে আমাদের মনস্তত্ত্ব নিয়েই বেশি কথা বলে। এগুলো অনিশ্চয়তার
প্রতি আমাদের ভয়, ক্ষমতার প্রতি চিরন্তন সন্দেহ এবং সাধারণ ঘটনার আড়ালে কোনো গভীর
অর্থ খোঁজার আকাঙ্ক্ষাকেই ফুটিয়ে তোলে। বর্তমান পৃথিবী যখন বিজ্ঞানের আলোয় ক্রমেই
আলোকিত হয়ে উঠছে, তখন অ্যান্টার্কটিকা এমন এক শেষ সীমান্ত যেখানে মানুষ আজও
রহস্যের গন্ধ পায়। সম্ভবত এই রহস্যময় থাকতে পারাটাই অ্যান্টার্কটিকার
সবচেয়ে বড় সার্থকতা।







অতিপ্রাকৃতিক ব্লগের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url